World Soil Day
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস (World Soil Day)

আজ ৫ ই ডিসেম্বর (5 December), বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস (World Soil Day)। প্রতি বছর ৫ ই ডিসেম্বর তারিখটি বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস রূপে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ সয়েল সায়েন্সেস্ (IUSS) সর্বপ্রথম মৃত্তিকা সম্পর্কে এক আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের প্রস্তাব প্রদান করে। ২০১৩ সালের ১৫-২২ শে জুন রোমে অনুষ্ঠিত খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) সম্মেলনের ৩৮-তম অধিবেশনে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ২০১৩ সালের ২০ শে ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫ ই ডিসেম্বর তারিখটি বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস রূপে এবং ২০১৫ সালকে আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বর্ষ (International Year of Soils) রূপে ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের ৫ ই ডিসেম্বর প্রথমবার বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালিত হয়। বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল : বাস্তুতন্ত্র এবং মানব কল্যাণের জন্য সুস্থ মৃত্তিকার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালনের লক্ষ্য হল — মৃত্তিকার অবক্ষয় এবং লবণাক্তকরণের মতো সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা এবং সরকার, সংস্থা ও জনসাধারণকে মৃত্তিকার স্বাস্থ্য উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করা। এবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের থিম হল : ‘Healthy Soils for Healthy Cities’।
সুদীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদি শিলা পরিবর্তনের ফলে ভূপৃষ্ঠের ওপরে বিভিন্ন খনিজ ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ হয়ে সৃষ্ট যে পাতলা ভঙ্গুর আবরণ বা স্তর উদ্ভিদ বৃদ্ধির সহায়ক, তাকে মৃত্তিকা (Soil) বলে। বিভিন্ন মৃত্তিকা বিজ্ঞানী মৃত্তিকার বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন — (১) মৃত্তিকা বিজ্ঞানের জনক (Father of Soil Science) রূপে পরিচিত ভি. ভি. ডকুচেড (V. V. Dokuchaev) প্রদত্ত সংজ্ঞা (১৮৯৩) : ভূপৃষ্ঠে মূল শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে এমন একটি প্রাকৃতিক স্তর গঠিত হয়, যা জল, বায়ু এবং জীবিত বা মৃত জীবদেহের প্রভাবে কম-বেশি পরিবর্তিত হয়, তাকেই বলে মৃত্তিকা। ইউজিন ওল্ডেমার হিলগার্ড (Eugene Woldemar Hilgard) প্রদত্ত সংজ্ঞা (১৯০৬) : মৃত্তিকা হল ভূপৃষ্ঠের ওপর গঠিত একপ্রকার শিথিল পদার্থ, যেখানে গাছপালা কেবলমাত্র তাদের শিকড় ছড়িয়েই দেয় না, সেখান থেকে খাদ্য গ্রহণ করে এবং একই সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। হ্যান্স জেনি (Hans Jenny) প্রদত্ত সংজ্ঞা (১৯৪১) : মৃত্তিকা হল এমন এক প্রাকৃতিক বস্তু যা মূল শিলা, জীবমন্ডল, জলবায়ু, ভূমিরূপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রকগুলির দীর্ঘকালীন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফল।
মৃত্তিকার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল — (১) মৃত্তিকা হল ভূত্বকের ওপরে অবস্থিত সর্বোচ্চ স্তর, যা শিলাস্তরের ওপর আচ্ছাদন হিসেবে অবস্থান করে। (২) মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। একটি পরিণত মৃত্তিকা সৃষ্টি হতে কয়েক শত বছর থেকে কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত সময় লাগে। (৩) জৈব পদার্থ হল মৃত্তিকার একটি অপরিহার্য উপাদান। বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহাবশেষ মৃত্তিকার সাথে যুক্ত হয়। (৪) যেকোনো পরিণত মৃত্তিকাতে একাধিক স্তর (O, A, B, C, D) লক্ষ্য করা যায়। মৃত্তিকার স্তরগুলির উল্লম্ব প্রস্থচ্ছেদ মৃত্তিকা পরিলেখ (Soil Profile) নামে পরিচিত। (৫) মৃত্তিকা থেকেই উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টিমৌলগুলি গ্রহণ করে। মৃত্তিকা সৃষ্টির প্রভাবক বা নিয়ন্ত্রকগুলি হল — সক্রিয় প্রভাবক/নিয়ন্ত্রক : জলবায়ু ও জীবজগৎ এবং নিস্ক্রিয় প্রভাবক/নিয়ন্ত্রক : আদি শিলা, ভূপ্রকৃতি, সময়। উল্লেখ্য, মৃত্তিকা বিজ্ঞানের যে শাখাতে মৃত্তিকার উৎপত্তি, বিকাশ ও শ্রেণীবিভাগ আলোচনা করা হয়, তাকে পেডোলজি (Pedology) বলে। মৃত্তিকা বিজ্ঞানের যে শাখাতে মৃত্তিকাকে উদ্ভিদের জন্ম, বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের মাধ্যম হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে ইডাফোলজি (Edaphology) বলে।
Pingback: Human Rights Day - ভূগোলিকা-Bhugolika