World Meditation Day
বিশ্ব ধ্যান দিবস (World Meditation Day)

আজ ২১ শে ডিসেম্বর (21 December), বিশ্ব ধ্যান দিবস (World Meditation Day)। প্রতি বছর ২১ শে ডিসেম্বর তারিখটি বিশ্ব ধ্যান দিবস রূপে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৬ ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ শে ডিসেম্বর তারিখটি বিশ্ব ধ্যান দিবস রূপে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রসংঘে লিচেনস্টাইন ২১ শে ডিসেম্বর তারিখটি বিশ্ব ধ্যান দিবস হিসাবে প্রস্তাব পেশ করে। ২০২৪ সালের ২১ শে ডিসেম্বর প্রথমবার বিশ্ব ধ্যান দিবস পালিত হয়। বিশ্ব ধ্যান দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল : উন্নত মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য সকলকে ধ্যান অনুশীলনে উৎসাহিত করে বিশ্বব্যাপী সুস্থতা, আন্তরিক শান্তি ও ঐক্যকে উৎসাহিত করা। বিশ্ব ধ্যান দিবস পালনের লক্ষ্য হল — ধ্যানের উপকারিতা তুলে ধরা এবং ইতিবাচকতা ও প্রশান্তি বৃদ্ধির জন্য ধ্যান সভাতে যোগদানে উৎসাহিত করা।
ধ্যান (Meditation) হল পেশী ও স্নায়ুর শিথিলায়নের মাধ্যমে আত্মনিমগ্ন হওয়া এবং অস্থির মনকে স্থির করা ও মনোযোগ একাগ্র করার প্রক্রিয়া। ধ্যান হল মনের ব্যায়াম, নীরবে বসে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন, যা মনোযোগ, সচেতনতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে। ধ্যান মনের স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করে এবং প্রশান্তি ও সুখানুভূতি বৃদ্ধি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) -এর মতে, চিকিৎসায় সহায়তা এবং সামগ্রিক সুস্থতা বৃদ্ধির জন্য, বিশেষত উদ্বেগের লক্ষণগুলি নিয়ন্ত্রণে ধ্যান স্ব-যত্নের এক শক্তিশালী সাধনী হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে মনোভাবনা ধ্যান (Mindfulness Meditation) আপনাকে শান্ত ও মনোযোগী হতে সাহায্য করে। সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু সংকট ও দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মতো বিশ্বব্যাপী সংপ্রশ্নের সময়ে, ধ্যান শান্তি, ঐক্য ও সহানুভূতি গড়ে তোলার এক শক্তিশালী উপায় প্রদান করে।
ধ্যান সাধারণত তিন ভাবে অভ্যাস করা যায় — (১) উদ্দেশ্য নিয়ে ধ্যান (সংকল্প/সকাম ধ্যান) (২) উদ্দেশ্যবিহীন ধ্যান (নিষ্কাম ধ্যান) (৩) প্রার্থনা ধ্যান (নাম স্মরণ ধ্যান)। পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গিতে, ধ্যান মূলত দুই প্রকার — (১) মনোযোগী ধ্যান (Focused Attention Meditation), অর্থাৎ কোনো একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মনোযোগ ধরে রাখা। যেমন — শ্বাস-প্রশ্বাস ধ্যান, মন্ত্র ধ্যান ইত্যাদি। (২) উন্মুক্ত পর্যবেক্ষণ ধ্যান (Open Monitoring Meditation), অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট বস্তুতে নয়, বরং পরিবেশ, চিন্তা, অনুভূতি ইত্যাদির প্রতি সচেতন থাকা। যেমন — মনোভাবনা ধ্যান, বিপাসনা ধ্যান ইত্যাদি। ধ্যানের মানসিক ও শারীরিক উপকারিতাগুলি হল — (১) মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা দূর করতে সাহায্য করে। (২) মানসিক স্বচ্ছতা, মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি করে। (৩) ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি করে। (৪) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে৷ (৫) অনিদ্রা কমাতে এবং ঘুমের উন্নতিতে সাহায্য করে।
Pingback: National Mathematics Day - ভূগোলিকা-Bhugolika