National Mathematics Day
জাতীয় গণিত দিবস (National Mathematics Day)

আজ ২২ শে ডিসেম্বর (22 December), জাতীয় গণিত দিবস (National Mathematics Day)। প্রতি বছর ভারতে ২২ শে ডিসেম্বর তারিখটি জাতীয় গণিত দিবস রূপে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ২২ শে ডিসেম্বর হল কিংবদন্তী ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন (Srinivasa Ramanujan) -এর জন্মদিন। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড: মনমোহন সিং ২২ শে ডিসেম্বর তারিখটি জাতীয় গণিত দিবস হিসাবে ঘোষণা করেন। ২০১২ সালের ২২ শে ডিসেম্বর অর্থাৎ শ্রীনিবাস রামানুজনের ১২৫-তম জন্মবার্ষিকীতে প্রথমবার জাতীয় গণিত দিবস পালিত হয়। জাতীয় গণিত দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল : ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজনের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করা, দৈনন্দিন জীবনে গণিতের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা, শিক্ষার্থীদের গণিত অধ্যয়নে অনুপ্রাণিত করা, যৌক্তিক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করা এবং সকল ক্ষেত্রে গাণিতিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা। জাতীয় গণিত দিবসের লক্ষ্য হল — গণিতকে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং ভারতের সমৃদ্ধ গাণিতিক উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
শ্রীনিবাস রামানুজন (১৮৮৭-১৯২০) ছিলেন এক কিংবদন্তী ভারতীয় গণিতবিদ। তিনি ১৮৮৭ সালের ২২ শে ডিসেম্বর ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ইরোডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কিশোর বয়সেই গণিত বিষয়ে তিনি প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। ১৯১১ সালে তাঁর প্রথম গবেষণা প্রবন্ধ ‘জার্নাল অফ দ্য ম্যাথেমেটিক্যাল সোসাইটি’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯১৪ সালে তিনি মাদ্রাজ থেকে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে গিয়েছিলেন এবং বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ গডফ্রে হ্যারল্ড হার্ডি (Godfrey Harold Hardy) এবং জন ইডেনসর লিটলউড (John Edensor Littlewood) -এর সাথে গণিত চর্চা করেন। ১৯১৮ সালে তিনি লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২০ সালের ২৬ শে এপ্রিল তিনি মাত্র ৩২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। গণিত বিদ্যাতে শ্রীনিবাস রামানুজনের কৃতিত্বগুলি হল — রামানুজন কনজেকচার (Ramanujan Conjecture), রামানুজন প্রাইম (Ramanujan Prime), রামানুজন সামেশন (Ramanujan Summation), রামানুজন থিটা ফাংশন (Ramanujan Theta Function), মক থিটা ফাংশন (Mock Theta Function) ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, গণিত (Mathematics) হল সংখ্যা, স্থান ও পরিমাণের বিজ্ঞান। গণিত হল মানসিক চিন্তাধারার ফলশ্রুতি এবং বিজ্ঞানের প্রবেশদ্বার। গণিত প্রকৃতপক্ষে একটি বিমূর্ত বিজ্ঞান, যা অবরোহ ধারাতে স্থান ও সংখ্যাগত সম্পর্কের প্রাথমিক ধারণাকে অনুসন্ধান করে এবং সত্য উদ্ঘাটন করে থাকে। তাই, গণিত হল পরিমাণ ও ক্ষেত্র সম্পর্কীয় বিজ্ঞান এবং যুক্তিভিত্তিক বিচারকরণের (Logical Reasoning) মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিজ্ঞান। গণিত হণ গণনা (Counting), পরিমাপ (Measurement) ও হিসাব (Calculation) নির্ণায়ক বিজ্ঞান। গণিত বিদ্যার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল — (১) নির্ভুলতা (Accuracy) (২) নিশ্চয়তা (Certainty) (৩) মৌলিকতা (Originality) (৪) প্রযোজ্যতা (Applicability) (৫) যুক্তির পরিমাপ (Measure of Logic) ইত্যাদি। গণিত বিদ্যার গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলি হল — পাটিগণিত (Arithmetic), বীজগণিত (Algebra), জ্যামিতি (Geometry), সংখ্যা তত্ত্ব (Number Theory), ক্যালকুলাস (Calculus), ত্রিকোণমিতি (Trigonometry), সম্ভাবনা ও পরিসংখ্যান (Probability & Statistics), টপোলজি (Topology) ইত্যাদি।
Pingback: National Farmers' Day - ভূগোলিকা-Bhugolika