National Education Day
জাতীয় শিক্ষা দিবস (National Education Day)

আজ ১১ ই নভেম্বর (11 November), জাতীয় শিক্ষা দিবস (National Education Day)। প্রতি বছর ভারতে ১১ ই নভেম্বর তারিখটি জাতীয় শিক্ষা দিবস রূপে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ১১ ই নভেম্বর হল স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ (Maulana Abul Kalam Azad) -এর জন্মদিন। তিনি ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট থেকে ১৯৫৮ সালের ২ রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর ভারত সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক মৌলানা আবুল কালাম আজাদের জন্মদিন অর্থাৎ ১১ ই নভেম্বর তারিখটি জাতীয় শিক্ষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করে। ২০০৮ সালের ১১ ই নভেম্বর প্রথমবার জাতীয় শিক্ষা দিবস পালিত হয়। জাতীয় শিক্ষা দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল : শিক্ষার মূল্যকে সম্মান করা, মানসম্মত শিক্ষার সর্বজনীনতা প্রচার করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জ্ঞানী সমাজ গড়ে তোলার জন্য ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা।
শিক্ষা শব্দটি সংস্কৃত ‘শাস্’ ধাতু থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যার অর্থ হল শাসন, নির্দেশ, আজ্ঞা, শাস্তিদান ইত্যাদি। শৃঙ্খলা রক্ষা, সংযত জীবনযাপন, সর্বপ্রকারের আনন্দ উপভোগ বর্জন — এক কথায়, ব্রহ্মচর্যাশ্রমের কঠোরতা ছিল প্রাচীন শিক্ষার আনুষঙ্গিক বিষয়। অন্যদিকে ইংরেজি ‘Education‘ শব্দটি লাতিন শব্দ ‘Educere’ (অর্থ : নির্দেশনা দেওয়া বা নিষ্কশন করা), ‘Educare’ (অর্থ : পরিচর্যা বা প্রতিপালন করা), ‘Educatum’ (অর্থ : শিক্ষাদানের কাজ), ‘Educo’ (অর্থ : বাইরে নিয়ে আসা) থেকে উদ্ভূত হয়েছে। সংকীর্ণ অর্থে, শিক্ষা বলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেই বোঝায়। ব্যাপক অর্থে, শিক্ষা জীবনের সঙ্গে সমব্যাপক। অর্থাৎ শিক্ষা ও জীবন সমার্থক। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত ‘মানব অধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র‘ (Universal Declaration of Human Rights) অনুসারে, শিক্ষা (Education) হল একটি মানব অধিকার (Human Right)।
শিক্ষা সম্পর্কে ভারতীয় মতাদর্শ : বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ ঋগবেদ (Rigveda) অনুসারে, শিক্ষা এমন একটি জিনিস, যা একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল এবং নিঃস্বার্থ করে তোলে। উপনিষদ (Upanishads) অনুসারে, শিক্ষা হল সেই প্রক্রিয়া যার শেষ ফলাফল হল মানুষের মুক্তি। আচার্য কণাদ (Acharya Kanad) -এর মতে, শিক্ষা হল আত্ম-পরিতৃপ্তির বিকাশ। অর্থশাস্ত্র রচয়িতা চাণক্য (Chanakya) বা কৌটিল্য (Kautilya)-এর মতে, শিক্ষা হল দেশসেবার জন্য উপযুক্ত শিক্ষণ ও জাতির প্রতি ভালবাসা। আদি শঙ্করাচার্য (Adi Shankaracharya) -এর মতে, শিক্ষা হল আত্ম উপলব্ধির উপায়মাত্র। স্বামী বিবেকানন্দ-এর মতে, শিক্ষা হল মানুষের ভিতর যে পূর্ণতা আগে থেকেই বিদ্যমান, তারই প্রকাশ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর মতে, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা হল তাই, যা কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না, যা বিশ্বসত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী-এর মতে, শিক্ষা হল শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহ, মন ও আত্মার শ্রেষ্ঠ গুণগুলির পূর্ণতার বিকাশ।
Pingback: Children's Day - ভূগোলিকা-Bhugolika