International Mountain Day
আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস (International Mountain Day)

আজ ১১ ই ডিসেম্বর (11 December), আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস (International Mountain Day)। প্রতি বছর ১১ ই ডিসেম্বর তারিখটি আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস রূপে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ১০ ই নভেম্বর রাষ্ট্রসংঘ ২০০২ সালকে আন্তর্জাতিক পর্বত বর্ষ (International Year of Mountain) রূপে ঘোষণা করে। ২০০২ সালের ২০ শে ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ ই ডিসেম্বর তারিখটি আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস রূপে ঘোষণা করে। ২০০৩ সালের ১১ ই ডিসেম্বর প্রথমবার আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল : বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য, জল এবং মানব কল্যাণে পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ; স্থিতিশীল উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন থেকে পাহাড়ি মানুষ ও পরিবেশকে রক্ষা করা। এবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসের থিম হল : ‘Glaciers Matter for Water, Food and Livelihoods in Mountains and Beyond’।
পর্বতের কোনো সর্বজনগৃহীত সংজ্ঞা নেই। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটার বা তার অধিক উচ্চতাযুক্ত, সুবিস্তৃত, এক বা একাধিক শৃঙ্গযুক্ত, খাড়া ঢালের শিলাময় উচ্চভূমিকে পর্বত (Mountain) বলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০-৯০০ মিটার উচ্চতাযুক্ত উচ্চভূমি পাহাড় (Hill) নামে পরিচিত। উল্লেখ্য, পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতমালা (World’s Highest Mountain Range) হল এশিয়া মহাদেশের হিমালয় (Himalaya), যার গড় উচ্চতা ৬০০০ মিটার এবং সর্বাধিক উচ্চতা ৮৮৪৮.৮৬ মিটার (মাউন্ট এভারেস্ট — পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ)। পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা (World’s Longest Mountain Range) হল দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের আন্দিজ (Andes), যার দৈর্ঘ্য ৭০০০ কিমি (সূত্র : Wikipedia) / ৭৬০০ কিমি (সূত্র : Guinness World Records) / ৮৯০০ কিমি (সূত্র : Encyclopædia Britannica)। সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে, পৃথিবীর উচ্চতম মুক্ত-দন্ডায়মান পর্বত (World’s Highest Free-standing Mountain above Sea Level) হল আফ্রিকা মহাদেশের তানজানিয়ার মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (Mount Kilimanjaro), যার উচ্চতা ৫৮৯৫ মিটার। সমুদ্র তলদেশ থেকে উচ্চতা অনুসারে, পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত হল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মউনা কিয়া (Mauna Kea)। সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে মউনা কিয়ার উচ্চতা ৪২০৭.৩ মিটার হলেও, সমুদ্র তলদেশ থেকে মউনা কিয়ার উচ্চতা ১০,২১০ মিটার (সূত্র : NOAA)।
উল্লেখ্য, উৎপত্তি অনুসারে পর্বত ৪ প্রকার — (১) ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain): ভূ-ত্বকে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে যে পর্বত সৃষ্টি হয়, তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। যেমন — হিমালয় পর্বত (এশিয়া), আল্পস পর্বত (ইউরোপ), আন্দিজ পর্বত (দক্ষিণ আমেরিকা) ইত্যাদি। (২) স্তূপ পর্বত (Block Mountain): ভূ-স্খলন বা চ্যুতির ফলে ভূমিভাগ উত্থিত হয়ে যে পর্বত সৃষ্টি হয়, তাকে স্তূপ পর্বত বলে। যেমন — সাতপুরা পর্বত (ভারত), ভোজ পর্বত (ফ্রান্স), ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত (জার্মানি) ইত্যাদি। (৩) আগ্নেয় পর্বত (Volcanic Mountain): অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে শীতল ও কঠিন হয়ে যে গম্বুজাকৃতি পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে আগ্নেয় পর্বত বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলে। যেমন — মাউন্ট ফুজিয়ামা (জাপান), মাউন্ট ভিসুভিয়াস (ইতালি), মউনা লোয়া (হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ) ইত্যাদি। (৪) ক্ষয়জাত পর্বত (Relict Mountain / Erosional Mountain / Residual Mountain): প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে বিস্তীর্ণ উচ্চভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয়, তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বা অবশিষ্ট পর্বত বলে। যেমন — আরাবল্লী পর্বত (ভারত), পূর্বঘাট পর্বত (ভারত), উরাল পর্বত (রাশিয়া) ইত্যাদি।
Pingback: Vijay Diwas - ভূগোলিকা-Bhugolika