International Day of Epidemic Preparedness
আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবস (International Day of Epidemic Preparedness)

আজ ২৭ শে ডিসেম্বর (27 December), আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবস (International Day of Epidemic Preparedness)। প্রতি বছর ২৭ শে ডিসেম্বর তারিখটি আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবস রূপে পালিত হয়। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ (COVID-19) মহামারী কালে, ২০২০ সালের ৭ ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৭ শে ডিসেম্বর তারিখটি আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবস রূপে ঘোষণা করে। ২০২০ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর তারিখে প্রথমবার আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল : উপযুক্ত পদ্ধতিতে এবং জাতীয় প্রেক্ষাপট ও অগ্রাধিকার অনুসারে, শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মহামারী প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং মহামারীর বিরুদ্ধে অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা। আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবস পালনের লক্ষ্য হল — সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যবস্থা প্রণালীগুলিতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরা।
আন্তর্জাতিক মহামারী প্রস্তুতি দিবসের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রসংঘ (United Nations) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) -এর অভিমত — সংকটজনক পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর জন্য স্থিতিস্থাপক এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থাকা অতি জরুরী। মহামারী প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া জানাতে স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্তরে মহামারী সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময়, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও সর্বোত্তম অনুশীলন, মানসম্মত শিক্ষা এবং সপক্ষতা কর্মসূচি অতি প্রয়োজন। যখন স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কোনো রোগ একটি নির্দিষ্ট স্থানে বা ভৌগোলিক অঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে মহামারী (Epidemic) বলে৷ উদাহরণ — পীত জ্বর (Yellow Fever), গুটি বসন্ত (Smallpox), কলেরা (Cholera), পোলিও (Polio), ম্যালেরিয়া (Malaria) ইত্যাদি। যখন কোনো মহামারী একাধিক মহাদেশ বা বিশ্বব্যাপী একটি বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে আক্রান্ত করে, তখন তাকে বৈশ্বিক মহামারী বা অতিমারী (Pandemic) বলে। উদাহরণ — ১৯১৮ স্প্যানিশ ফ্লু (1918 Spanish Flu), ২০০৯ সোয়াইন ফ্লু (2009 Swine Flu), কোভিড-১৯ (COVID-19) ইত্যাদি।
মহামারী ব্যবস্থাপনা (Epidemic Management) বলতে বোঝায়, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাবগুলি সর্বনিম্ন করে মহামারীর পূর্বাভাস, প্রতিরোধ, প্রস্তুতি, শনাক্তকরণ, প্রতিক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া। মহামারীর আগে, মহামারী চলাকালীন এবং মহামারীর পরে যা কিছু করা দরকার তা মহামারী ব্যবস্থাপনা বর্ণনা করে। প্রস্তুতি (Preparedness) হল মহামারী ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। মহামারী প্রস্তুতি (Epidemic Preparedness) হল জাতীয় স্তর থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্তর পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রম, যা কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে কার্যকরী প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত থাকবে। মহামারী প্রস্তুতির উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে নিয়মিত নজরদারি ব্যবস্থা, প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সাথে সাথে তা শনাক্ত করতে পারে এবং প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত করতে, তদন্ত করতে ও প্রতিক্রিয়া জানাতে কর্মীদের সংগঠিত করা। এছাড়া মহামারী প্রস্তুতিতে মহামারী কালে ওষুধ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ মজুতকরণ এবং সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।