Good Governance Day
সুশাসন দিবস (Good Governance Day)

আজ ২৫ শে ডিসেম্বর (25 December), সুশাসন দিবস (Good Governance Day)। প্রতি বছর ভারতে ২৫ শে ডিসেম্বর তারিখটি সুশাসন দিবস রূপে পালিত হয়। উল্লেখ্য, ২৫ শে ডিসেম্বর হল ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা ভারত রত্ন অটল বিহারী বাজপেয়ী (১৯২৪-২০১৮) -এর জন্মদিন। ১৯২৪ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর অটল বিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) বর্তমান মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে ভারত সরকার ২৫ শে ডিসেম্বর তারিখটি সুশাসন দিবস রূপে ঘোষণা করে এবং ২০১৪ সালের ২৫ শে ডিসেম্বর তারিখে প্রথমবার সুশাসন দিবস পালিত হয়। সুশাসন দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল : প্রশাসনকে দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক কল্যাণকে উৎসাহিত করা এবং উন্নত পরিষেবা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক জনগণের সেবা সুনিশ্চিত করা। সুশাসন দিবস পালনের লক্ষ্য হল — জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নাগরিক-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার প্রচারণা, দুর্নীতি হ্রাস, পরিষেবা প্রদান উন্নতকরণ, নীতিমালা সমুন্নতি।
সুশাসন (Good Governance) হল সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে জনসাধারণের বিষয় পরিচালনা করে, জনসাধারণের সম্পদ পরিচালনা করে এবং মানবাধিকার বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেয়, তা পরিমাপ করার প্রক্রিয়া, যা মূলত অপব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত এবং আইনের শাসনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে। রবার্ট লসন (Robert Lawson) -এর মতে, ‘সুশাসন নিরপেক্ষতার ধারণার সাথে সম্পর্কিত, যা মূলত যখন আমলারা তাদের স্বার্থের পরিবর্তে জনস্বার্থ অনুসরণ করে তাদের কাজ সম্পাদন করে’। সুশাসন সম্পর্কে ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা (Francis Fukuyama) -এর বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের সক্ষমতা এবং আমলাতন্ত্রের স্বাধীনতা হল দুটি বিষয়, যা নির্ধারণ করে যে শাসনব্যবস্থা চমৎকার নাকি ভয়াবহ’। সুশাসন হল একটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা, যা উন্মুক্ত, স্বচ্ছ জবাবদিহিতামূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হল সুশাসন। ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank) -এর ‘Governance and Development‘ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রকাশিত হয়।
সুশাসনের ৮ টি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল — (১) জবাবদিহিতা (Accountability) : সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে। (২) স্বচ্ছতা (Transparency) : সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম উন্মুক্ত প্রকৃতির হবে, যা দুর্নীতি হ্রাস করে। (৩) আইনের শাসন (Rule of Law) : সবার জন্য সমান আইন, যা ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিত করে। (৪) অংশগ্রহণ (Participation) : সকল নাগরিকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। (৫) প্রতিক্রিয়াশীল (Responsive) : জনগণের চাহিদা ও সমস্যা দ্রুততার সাথে পূরণ করা হবে। (৬) দক্ষ ও কার্যকর (Efficient and Effective) : সরকারি সম্পদ ও পরিষেবার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। (৭) ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (Equitable and Inclusive) : সমাজের সকল অংশের মানুষের সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা। (৮) সম্মতিভিত্তিক (Consensus-oriented) : সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করা।
Pingback: International Day of Epidemic Preparedness - ভূগোলিকা-Bhugolika